টোটকা

গলায় মাছের কাটা লেগে গেলে, অর্ধেক লেবু নিয়ে রস চুষে খেয়ে ফেলুন। কাটা নরম হয়ে নেমে যাবে।
>মুখে/জিভে সাদা ঘা হলে, পানির সাথে কর্পূর গুলে মুখ দিনে ২ বার ধুয়ে নিন।
>দই খুব ভাল এন্টাসিড হিসাবে কাজ করে। এসিডিটির সমস্যা শুরু হওয়া মাত্র , কয়েক চামচ দই খেয়ে নিন।
>২ টুকরা দারুচিনি ১টি এলাচি, ২টি তেজপাতা ,২টি লবঙ্গ ও সামান্য চিনি পানিতে ফুটিয়ে ছেকে নিন। হালকা গরম অবস্থায় এই পানি খেলে কাশি ভাল হবে।
>মাথা ব্যথা হলে, কালজিরা একটা পুটলির মধ্যে বেধে শুকতে থাকুন।

অপেক্ষায় রইলাম !

একবার একলোক তার বউকে একটা SMS পাঠাল
.
.
.
কিন্তু ভুল বশত সেই sms টি চলে গেলো এক বিধবা মহিলার কাছে।সেই বিধবা মহিলার স্বামী মাত্রই গতকাল মারা গিয়েছেন।।যাই হোক, মহিলা sms টি খুললেন,পড়লেন, এবং সাথে সাথে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন!!
কি লেখা ছিল সেই sms টি??
.
.
.
.
.
.
sms টি তে লেখা ছিলঃ












আমার প্রিয় বউ!! আমি ঠিকঠাক মতই
পৌঁছেছি!! আমি জানি তুমি আমার কাছ থেকে মেসেজ আশা করনি!! এখানে আজকাল মোবাইল ফোন এসে পড়েছে!! আমি আসার সাথে সাথে তারা আমাকে একটি মোবাইল ফোন গিফট করেছে!! সেই মোবাইল থেকেই আমি তোমাকে মেসেজ পাঠালাম!! তুমি জেনে আরো খুশি হবে যে,তারা সবাই এখানে তোমার জন্য অপেক্ষা করছে!!
আশা করা যায়,কাল- পরশুর মধ্যেই তুমিও চলে আসবে!! আশা করি তোমার যাত্রাও হবে আমার মত সুখের!! তোমার অপেক্ষায় রইলাম!

ঘামাচির যন্ত্রণা থেকে রক্ষা পেতে (পর্ব ৩)


বছর শুরু গ্রীষ্মকালে। গ্রীষ্মের দাবদাহে প্রচন্ড গরমে ঝরঝরে ঘাম, রাজ্যের পিপাসা, পানিশূণ্যতা, হিট স্ট্রোক, শারীরিক দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা, ঘামাচি, গরম থেকে ঠান্ডা লাগা, খাদ্যে বিষক্রিয়া- কত সমস্যা হতে পারে মানুষের শরীরে! একটু সতর্ক থেকে বছর শুরুর এই ঋতুতে সুস্থ থাকুন।

পান করুন পর্যাপ্ত পানি: গ্রীষ্মের গরমে ঘেমে ঘেমে কমে যায় শরীরের পানি। সেই সাথে কিছু খনিজ লবণ। পানির এ ঘাটতি পূরণ করতে পান করুন পর্যাপ্ত পানীয়। পানিশূণ্যতা প্রতিরোধের জন্যও পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। দৈনিক আট গ্লাস বা তার চেয়ে বেশি পানি পান করা উচিৎ। পান করুন ততক্ষণ যতক্ষণ না তৃষ্ণা মিটে। আর তৃষ্ণা পেলেই পান করুন পানীয়। ঠান্ডা বিশুদ্ধ পানিই উৎকৃষ্ট পানীয়। ফ্রিজের অতি ঠান্ডা পানি নয়, তা গলা ব্যথার কারণ হতে পারে। গরমে শিশুরা পানিশূণ্যতায় আক্রান- হয় বড়দের চেয়ে দ্রুত। তাই শিশুরা যেন পর্যাপ্ত পানি পান করে, সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। চিনির সরবত প্রয়োজন নেই মোটেও। বাইরের সরবত বা ফলের রস খাওয়ার পূর্বে এগুলোর পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে নিশ্চিত হোন। আইস ক্রীমের ঠান্ডায় গলা ব্যথা হতে পারে। জীবাণুমুক্ত না থাকলে হতে পারে জন্ডিস, আমাশয়, ডায়রিয়া, টাইফয়েড। মৌসুমী ফলও পানির চাহিদা মিটাবে। মিটাবে ক্ষুধা। শক্তিও দেবে বেশ। তাই যথেষ্টই আহার করুন তরমুজ, শশা, পেঁপে, লিচু, আম, কলা, বেল, বাঙ্গি ইত্যাদি ফল। শরীর ঠান্ডা থাকবে। তবে অনেক বেশি খেয়ে বদহজম, পেট খারাপ বা পাতলা পায়খানা যেন না হয়, সে খেয়ালও রাখুন। শরীর যখন ঘামে তখন ঘামের সাথে শরীরের লবণও বের হয়ে যায় যথেষ্ট পরিমাণে। শরীরে লবণের ঘাটতি হলে শরীর হয়ে পড়ে দুর্বল, ক্লান্ত। মাংসপেশিতে হতে পারে খিঁচুনি। লবণের এ ঘাটতিও পূরণ হওয়া চাই। ফলমূল এ ঘাটতি পূরণে অবশ্যই সহায়ক। খাবার স্যালাইনও পান করতে পারেন প্রয়োজনে।

গরম থেকে হিট স্ট্রোক:পর্যাপ্ত পানি পান না করলে বেশি গরমে শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে হতে পারে হিট স্ট্রোক। জ্বর, ঘামহীন শুষ্ক ত্বক, শ্বাস প্রশ্বাসের হার বৃদ্ধি, হৃদস্পন্দনের হার বৃদ্ধি, বমি বমি ভাব, মাথা ব্যাথা, খিঁচুনি, এমন কি অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

কাপড় চোপড় হোক আরামদায়ক: হালকা রঙের পাতলা সুতি কাপড়ের ঢিলেঢালা জামা কাপড় পরিধান করুন। কাপড়ের রং হালকা হলে তা বাইরের তাপ শোষণ করবে কম। পাতলা সুতি কাপড়ের ভেতর দিয়ে বায়ু চলাচল করতে পারবে বেশ। শরীরে গরম অনুভূত হবে কম, আরাম লাগবে বেশি।

বাইরে গেলে ভাবতে হবে: সূর্যের আলট্রাভায়োলেট রশ্মির জন্য হতে পারে ত্বকের ক্যান্সার। ক্ষতি হতে পারে চোখেরও। রোদের হাত থেকে ত্বক ও চোখ বাঁচতে মাথায় ব্যবহার করুন ছাতা বা ক্যাপ। চোখে সান গ্লাস বা রোদ চশমা। আর গায়ে আরাম দায়ক জামাকাপড় তো থাকতেই হবে।

ঘাম থেকে ঘামাচি: আমাদের ত্বকে আছে অজস্র ঘর্মগ্রন্থি। এগুলো থেকে ঘাম বের হয়। ঘামের সাথে ত্বকের ময়লা যুক্ত হয়ে এই গ্রন্থিগুলোর মুখ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ঘাম জমা হবে ভেতরে, আর গ্রন্থিগুলো ওঠবে ফুলে। হয়ে যাবে ঘামাচি। বেশি ঘামলে ঘামাচি হবার সম্ভাবনা বেশি। শিশুদের ঘর্মগ্রন্থিগুলো কম পরিপক্ক। ফলে তাদের ঘামাচি হবার সম্ভাবনা বড়দের চেয়ে বেশি। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকলে বা সাবান দিয়ে নিয়মিত ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে ঘামাচি হবে কম। পাতলা জামাকাপড় পরিধান করলে শরীর ঘামবে কম। তাতেও ঘামাচির আশঙ্কা কমবে।

গরমের ঠান্ডা লাগার ভয়: শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা খুব বেশি কম হলে ঠান্ডা লাগতে পারে। ঠান্ডা লাগতে পারে ঘামের শরীরে গোসল করলেও। ঠান্ডা পানিতে গোসল আরামদায়ক। তবে গোসলের পূর্বে শরীরের ঘাম শুকাতে দিন।

রোগজীবাণু বাড়ে দ্রুত: গরম আবহাওয়ায় খাবার রেখে দিলে তাতে রোগজীবাণু বংশবৃদ্ধি করে দ্রুত। সুতরাং রান্না করা খাবার খেতে হবে গরম গরম। পরে খেতে চাইলে তা রেখে দিতে হবে ফ্রিজে। অন্যথায় ফুড পয়জনিং হয়ে হতে পারে ডায়রিয়া, পেট ব্যথা, বমি।

বিশ্রাম নিন পরিমিত: ঘামে ক্লান্ত দুর্বল শরীর সকল পরিশ্রম না ও সইতে পারে। ব্যায়াম বা পরিশ্রম করুন সহনীয় পর্যায়ে। সেটাও সকালে বা বিকেলে। দুপুরের কড়া রোদে নয়। বিশ্রাম নিন পরিমিত।

ঘামাচির যন্ত্রণা থেকে রক্ষা পেতে (পর্ব ২)




বাংলায় আমরা যাকে ঘামাচি বলি তাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় Miliaria. এটি একটি ঘর্মগ্রন্থির রোগ। ঘর্মগ্রন্থির নালী অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও গরমে বন্ধ হয়ে এ রোগের সৃষ্টি করে। এ রোগটি গ্রীষ্মকালে দেখা যায় এবং শীতকাল এলে আপনা আপনিই ভালো হয়ে যায়। গ্রীষ্মকালে দেহ থেকে প্রচুর পরিমাণ ঘাম নিঃসরণ হতে থাকে। ফলে তখন এত বেশি পরিমাণ নিঃসরণ কেবল ঘর্মগ্রন্থির ছিদ্রপথে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়। ফলে ওই নিঃসরণ ঘর্মগ্রন্থিকে ছিদ্র করে ত্বকের নিচে এসে জমা হতে থাকে এবং সে স্থান ফুলে ওঠে। সেই সাথে থাকে প্রচণ্ড চুলকানি ও সামান্য জ্বালাপোড়া ভাব ও ছোট ছোট উদ্ভেদ এটাই মূলত ঘামাচি। ঘামাচি তিন ধরনের হয়। যেমন মিলিয়ারিয়া কৃস্টালিনা, এ ক্ষেত্রে ঘর্মনালীর মুখের অংশটি কালো দেখা যায় এবং এ ক্ষেত্রে ত্বক দেখতে প্রায় স্বাভাবিক বলেই মনে হয়। সাধারণত এ ক্ষেত্রে কোনো উপসর্গই থাকে না। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে উজ্জ্বল পানির দানা স্বাভাবিক ত্বকের ওপর হতে দেখা যায়। দ্বিতীয়টি অর্থাৎ মিলিয়ারিয়া রুবরার ক্ষেত্রে ঘর্মনালীর রুদ্ধতা দেখা যায়। ত্বকের বহিঃত্বকের মধ্যের ঘর্মনালীতে এবং এ ক্ষেত্রে ত্বকের ওপর ছোট ছোট অসংখ্য গোটা দেখা যায়। যে গোটার মাথায় পানির দানা থাকতেও পারে, আবার নাও থাকতে পারে, যা লালচে ত্বকের ওপর হতে দেখা যাবে এবং সেই সাথে থাকবে প্রচণ্ড চুলকানি, যা মূলত শরীরের মূল অংশ ও ঘাড়ে বেশি হতে দেখা যায়।



তৃতীয়টি অর্থাৎ Miliaria Profounda-এর ক্ষেত্রে ঘর্মনালীর ইসলসধর বা বদ্ধতা মূলত ত্বকের বহিঃত্বক ও অন্তঃত্বকের মিলনস্থানে দেখা দেয় অর্থাৎ ত্বকের অনেক গভীরে। কাজেই ত্বক দেখতে অনেকটা স্বাভাবিক ধরনের মনে হয় এবং এ ক্ষেত্রে এই দানা বা গোটা মূলত দেহের মূল অংশে (Trunk) এবং হাতে ও পায়ে হতে দেখা যায়। এই তিন ধরনের মধ্যে Miliaria Rubra সবচেয়ে বেশি হয়। এই রোগটি গরমকালে হয় বলে তাকে Heat Rash বলা হয়ে থাকে। গরম ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় এ রোগ বেশি হয় এবং গরমকালে যারা গায়ে তেল মাখেন, তাদের এ রোগ বেশি হয়। এ রোগ নির্ণয়ের জন্য সাধারণত কোনো পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না। চোখে দেখে চিকিৎসকরা এ রোগ নির্ণয় করে থাকেন। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে Folliculitits কিংবা ত্বকের CANDIDIASIS অথবা Contract Dematititis-এর মতো দেখতে মনে হয় বলে চিকিৎসকরা Confusion-এ ভুগে থাকেন।



চিকিৎসাঃ মূল চিকিৎসা হলো গরম আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটিয়ে ঠাণ্ডা পরিবেশে যেতে হবে। আর যদি Air Cooler-এর ব্যবস্থা সম্ভব না হয় তাহলে সার্বক্ষণিক ফ্যানের নিচে থাকতে হবে; যেন ত্বকের সংস্পর্শে বাতাস খেলতে পারে। এ ছাড়া হাইড্রোকটির্সোন ১ শতাংশ ব্যবহার করলে ত্বকের চুলকানি কমে যায়। এ ছাড়া Anthical Lotion অথবা Calamine Lotion লাগিয়ে ভালো ফল পাওয়া যায় এবং এর সাথে AntihistaminI ব্যবহার করা যায়।

অতিরিক্ত ঘামঃ হাত ও পায়ের তালুসহ শরীর থেকে অল্প পরিমাণ ঘাম হওয়া একটি স্বাভাবিক দৈহিক ক্রিয়া। কিন্তু সে যদি অধিক পরিমাণে হয় বা তা থেকে যদি দুর্গন্ধ নির্গত হয়, তবে তাকে বলা হয় Hyperhidrosis. এটা Localized বা Generalilzed অর্থাৎ সর্ব শরীরব্যাপীও হতে পারে। লক্ষ্য করলে দেখবেন অনেকেরই শুধু হাত কিংবা হাত ও পা একত্রে অধিক পরিমাণে ঘামে এবং কখনো কখনো দুর্গন্ধও হয়। এই রোগ শোক-দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও আবেগতাড়িত ব্যক্তিদেরই বেশি হয়। এ ছাড়া Spicy Food টমেটো, সচ, চকোলেট, চা-কফি ও গরম স্যুপ খেলে অতিরিক্ত ঘর্ম হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কপালে, ওপরের ঠোঁটে, ঠোঁটের আশপাশে এমনকি বুকের মধ্যখানে অধিক মাত্রার ঘাম শুরু হতে দেখা যায়। খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই এই ধরনের অতিরিক্ত ঘর্ম হওয়াকে বলা হয় Dustarory Hyper hydrosis.

চিকিৎসাঃ ২০ শতাংশ অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড টিংচার সপ্তাহে তিনবার প্লাস্টিক গ্লোবসের মাধ্যমে করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এ ছাড়া ঘুম ও দুশ্চিন্তানাশক ওষুধের সাথে Probanthine ব্যবহারেও ভালো ফল পাওয়া যায়।

ঘর্মরোধ (Anhyrosis)ঃ ঘাম না হওয়াকেই ঘর্মরোধ বলা হয়। বিভিন্ন কারণে এই রোগ হতে পারে। যেমন জন্মগতভাবে যদি ঘর্মগ্রন্থি অনুপস্থিত থাকে কিংবা স্নায়ুতন্ত্র আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে অনুভূতি ক্ষমতা কমে যায়। অথবা কোনো বিষাক্ত ওষুধ ব্যবহারে ঘর্মগ্রন্থি ধ্বংসপ্রাপ্ত হলে, লোমকুপের মধ্যে অধিক পরিমাণে ময়লা জমলে এই অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে Diprovate-MF মলম ব্যবহারের পাশাপাশি Tab Betnelan 0.5mg একটি করে দিনে তিনবার দুই থেকে তিন মাস পর্যন্ত ব্যবহারে ভালো ফল পাওয়া যায়।

ঘামাচির যন্ত্রণা থেকে রক্ষা পেতে (পর্ব ১)

ছোটখাট কিছু অসুখ আছে যাতে ভুগেনি এমন মানুষ নেই । অথচ এ সব রোগকে অনেকেই অবজ্ঞা করেন বা এগুলোকে রোগ হিসেবে গ্রহণ করতে চান না । অথচ এসব অতিশয় সাধারণ রোগও অনেক সময় বেশ ক্ষতি করতে পারে। এ ধরণের একটি রোগ হলো ঘামাচি ।
পাঠক আজকে আমরা এই ঘামাচি রোগ নিয়ে আলোচনা করব। ঘামাচি নিয়ে আমরা কথা বলেছিলাম ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের প্রধান এসোসিয়েট প্রফেসর ডা. শাহাবউদ্দিন আহমদ চৌধুরীর সাথে । ঘামাচি আমাদের একটি অতি পরিচিত নাম। তবে একে চর্ম রোগ হিসেবে গ্রহণ করতে আমাদের মধ্যে অনেকেই রাজী হয়ত হবেন না । কিন্তু সত্যি বলতে কি ঘামাচিও একটি চর্ম রোগ। বাংলায় আমরা যাকে ঘামাচি বলি তাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় তাকে বলা হয় মিলিরিয়া (Miliaria)। মিলিরিয়া বা ঘামাচি আমাদের দেহের ঘর্মগ্রন্থির রোগ।
আমাদের দেহে যে ঘর্ম-নালী আছে তা অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও গরমে বন্ধ হয়ে এ রোগের সৃষ্টি করে। ঘামাচি গ্রীষ্মকালে দেখা যায় এবং আবহাওয়া ঠান্ডা হতে থাকলে বা শীতকালে তা আপনা আপনিই ভালো হয়ে যায়। গ্রীষ্মকালে দেহ থেকে প্রচুর পরিমাণ ঘাম নিঃসরণ হতে থাকে ফলে ওই নিঃসরণ ঘর্মগ্রন্থিকে ফুটো করে ত্বকের নিচে জমা হতে থাকে এবং সে স্থান ফুলে ওঠে । সেই সাথে থাকে প্রচণ্ড চুলকানি ও সামান্য জ্বালাপোড়া ভাব ও খুব ছোট ছোট দানার মতো দেখতে পাই আর এটাই হলো ঘামাচি । আমাদের দেহে যে সব ঘামাচি হয় তার সবই এক ধরনের নয় বলে জানিয়েছেন প্রফেসর শাহাবউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী । তিনি আমাদের জানালেন, সাধারণ ভাবে আমাদের দেহে যে সব ঘামাচি হয় তা তিন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন মিলিয়ারিয়া কৃস্টালিনা। এই ক্ষেত্রে ঘর্মনালীর মুখের অংশটি কালো দেখা যায় এবং ত্বক দেখতে প্রায় স্বাভাবিক বলেই মনে হয়। সাধারণত এ ক্ষেত্রে কোনো উপসর্গই থাকে না। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে উজ্জ্বল পানির দানা ত্বকের ওপর হয়েছে বলে দেখা যায়। হালকা ভাবে ঘষা দিলেই এই ঘামাচি মিলিয়ে যায় । এই জাতীয় ঘামাচিতে চুলকানি প্রায় থাকেই না।
দ্বিতীয় প্রকারের ঘামাচিকে বলা হয় মিলিয়ারিয়া রুবরা,এ ক্ষেত্রে ত্বকের উপরে ছোট ছোট অসংখ্য গোটা দেখা যায়। সে গোটার মাথায় পানির দানা থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে, তবে ত্বক রং লালচে হয়ে যায়। একই সাথে ত্বকে থাকবে প্রচণ্ড চুলকানি ।এই ঘামাচি আক্রান্ত কারো কারো মনে হয় দেহে পিন ফুটানো হচ্ছে। সাধারণ ভাবে ঘামাচি বলতে আমরা এই ধরণের ঘামাচিকে বুঝে থাকি। এই ঘামাচি মূলত শরীরের মূল অংশ ও ঘাড়ে বেশি হতে দেখা যায়। এই ঘামাচি ফুসকুড়ি আকার ধারণ করলে বা পেকে গেলে তাকে বলা হয় মিলিয়ারিয়া পাসটুলোসা(Miliria Pastulosa)। আরেক ধরণের ঘামাচিকে মিলিরিয়া প্রোফাউন্ডা( Miliaria Profounda) বলা হয়। এ ক্ষেত্রে ঘর্মনালী Blook বা বদ্ধ হয়ে ত্বকের বহিঃত্বক ও অন্তঃত্বকের মিলনস্থানে দেখা এ সব ঘামাচি দেখা দেয়। হঠাৎ করে গরম দেখা দিলে বা গরমস্থানে থাকলে এই ঘামাচি দেখা দেয়। কিন্তু গরম স্থান থেকে সরে আসলে ঘন্টা খানেকের মধ্যে এসব ঘামাচি মিলিয়ে যায়।
তবে সাধারণ ভাবে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় যে ঘামাচি তা হলো মিলিরিয়া রুবরা। এই রোগীটি গরমকালে হয় বলে অনেকে একে Heat Rash বলে থাকেন। গরম ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় ঘামাচির প্রকোপ সবচেয়ে বেশি হয় এবং গরমকালে যারা গায়ে তেল মাখেন তাদের এ রোগ বেশি হয়। ঘামাচি নির্ণয়ের জন্য সাধারণত কোনো পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না। খালি চোখে দেখে চিকিৎসকরা এ রোগ নির্ণয় করে থাকেন। ঘামাচি থেকে যে সব জটিলতা দেখা দিতে পারে তার মধ্যে রয়েছে ঘাম বের হওয়ার গ্রস্থি বন্ধ হয়ে দেহের ঘাম বের হওয়ার পথে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা। আর এরফলে দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যেতে পারে দেখা দিতে পারে ঘামাচি। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কর্ম ক্ষমতা লোপ পেতে থাকবে। খাবারে অরুচি দেখা দেবে এবং সর্বক্ষণ দেহে একটা ক্লান্তিকর অনুভূতি থাকবে। পরিস্থিতি আরো মারাত্মক হলে রোগী একেবারে কাজ কর্ম করতে পারবে না। তবে এই চরম অবস্থাটা খুবই কম হয়। অর্থাৎ ঘামাচি সাধারণ রোগ হলেও তা নিয়ে মোটেও হেলাফেলা করা ঠিক হবে না।
সাধারণ ভাবে গরম এবং আর্দ্রতার কারণে ঘামাচি হয় বলে এই রোগের চিকিৎসা করতে গেলে রোগীকে প্রথমেই এ জাতীয় বৈরী পরিবেশ থেকে সরিয়ে নিতে হবে। তাকে তুলনামুলক ভাবে ঠান্ডা ও শীতল স্থানে রাখতে হবে। প্রফেসর ডা. শাহাবউদ্দিন আহমদ চৌধুরী আমাদের আরো জানালেন, ঘামাচির রোগীকে যদি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে ১২ থেকে ২৪ ঘন্টা রাখা হয় তবে তা দেহের ঘামাচি একবারে দূর হয়ে যায়। তিনি ঘামাচি আক্রান্ত রোগীর ঘর্ম গ্রন্থির মুখ খুলে দেয়ার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিশেষ জাতের মলম ব্যবহার করার কথা বলেছেন। এ ছাড়া চুলকানি কমানোর জন্য এন্টি হিস্টামিন ও ঘামাচির কারণে দেহের কোথাও কোনো ঘা হলে তার সারানোর জন্য এন্টি বায়োটিক দেয়া হয় ।

সুস্থ জীবন কাটাতে চান ? নাকডাকা আগে সারান

নাসিকা গর্জন৷ যাকে নিয়ে আমরা হাসিঠাট্টা করে থাকি৷ সেই নাকডাকা ব্যাপারটা যে কত ভয়ংকর হতে পারে, তাই জানালেন জার্মানির গবেষকরা৷ সুস্থ জীবন যাপনের জন্য আগে এটাকে বন্ধ করা প্রয়োজন৷
রোজ কত কী ঘটে যাহা তাহা.. / এমন কেন সত্যি হয়না আহা! রবি ঠাকুরের এই কবিতাটি অবশ্যি অন্য কারণে লেখা হয়েছিল৷ কিন্তু এই যে মানুষের বদভ্যাস৷ উদাহরণ, নাক ডাকা, নিঃশ্বাসের শব্দ, শরীর থেকে তৈরি হওয়া আরও কিছু শব্দটব্দ, এসব যদি না থাকত? তাহলে জীবনটা আরও নিরাপদ হত না কী! কিন্তু সেটা সত্যি হয়না৷ আর সেসব ভুলভাল কারণেই প্রতি বছর প্রচুর যুগল, অসংখ্য দম্পতি হারিয়ে ফেলে ভালোবাসা৷ চলে যায় বিচ্ছেদের পথে৷ দেখা দেয় হাজারো দুঃখ বিষাদ, এই জীবনে৷

তারপরেও বিজ্ঞান বলছে, ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা মানেই অসুস্থতা, তা কিন্তু নয়৷ বার্লিনের শারিটে ইউনিভার্সিটির স্লিপ মেডিসিন বিভাগের প্রধান গবেষক আলেক্জান্ডার ব্লাউ বেশ দীর্ঘ গবেষণার পর একথা জানিয়েছেন৷ তাঁর বক্তব্য, অনেক ক্ষেত্রেই নাকডাকা কোন একটা অসুস্থতার লক্ষণ৷ কিন্তু সব ক্ষেত্রে সেটা বাস্ততবসম্মত নয়৷

কিন্তু ঘুমের মধ্যে কেন ডাকে আমাদের নাক? নাক কান ও গলার সমস্যা নিয়ে জার্মান গবেষণাকেন্দ্র ডিজিএসএম- এর তরফে ইয়ান লোয়লার বলছেন, নাকের হাড়ের গঠনে বিচ্যুতি থেকে ঘুমোতে যাওয়ার আগে মদ্যপান, নাক ডাকার কারণ এক নয়, বহু৷ সেগুলোর ব্যাখ্যা দিয়ে তাঁর মন্তব্য, যে সমস্ত ব্যক্তির নাক ডাকে বিস্তর পরিমাণে, তাঁদের কিন্তু সতর্ক হওয়া দরকার৷ কারণ, এই নাক ডাকা এমনকি বড়মাপের অসুস্থতাও ডেকে আনতে পারে!
কীভাবে, নাক ডাকা থেকে অসুস্থতা? ডিজিএসএম- এর গবেষণা বলছে, যে সব মানুষ ঘুমের মধ্যে বিস্তর পরিমাণে নাক ডাকায় ভোগেন, তাঁদের চিকিৎসায় পরিভাষায় বলা হয়, ম্যালিগন্যান্ট স্নোরিং৷ আরও বিশদে বললে অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ আপনিয়া (Obstructive Sleep Apnea) বা সংক্ষেপে ওএসএ৷ এই ওএসএ-র শিকার যাঁরা, তাঁদের অনেকেই ভোগেন হৃদযন্ত্রের সমস্যায়৷ এঁদের মধ্যে কারও যদি থাকে উচ্চ রক্তচাপ কিংবা ডায়াবেটিসের মত রোগ, তাহলে সমস্যা আরও বেড়ে যায়৷ সেক্ষেত্রে ঘুমের মধ্যে নাক ডাকতে ডাকতে অনেক সময় ত্রিশ সেকেন্ড পর্যন্ত কোন অক্সিজেন শরীরে পৌঁছয় না সেই ব্যক্তির৷ রক্তে কার্বনের পরিমাণ বাড়তে থাকে৷ সেটা তো মস্ত এক জটিলতা৷

এ বিষয়েই সতর্কতা শুনিয়েছে ডিজিএসএম৷ তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা এ ধরণের ওএসএ- তে ভুগছেন, সচরাচর সারারাত নাক ডেকে ঘুমিয়েও পরের দিনটা তাঁরা অবসন্ন বোধ করেন, ঝিমুনি আসে, কাজে ছন্দ পান না৷ তার কারণটাও ওই রক্তে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়৷ এক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াটা তাঁদের জন্য জরুরি৷ ডিজিএসএম- এর সেটাই পরামর্শ৷

দেখা গেছে, শিল্পোন্নত দেশগুলিতে শতকরা ৫০ জন পুরুষ আর ৩০ জন মহিলা নিয়মিত নাক ডাকেন ঘুমের সময়ে৷ তাঁদের মধ্যে জটিল নিঃশ্বাসের সমস্যায় ভোগেন ২০ শতাংশ পুরুষ আর ১০ শতাংশ মহিলা৷ এই সমস্যা দূর করার উপায়ও বাতলেছে ডিজিএসএম৷ বলেছে, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোতে যাওয়াটা জরুরি৷ ঘুমের আগে কোন অবস্থাতেই অ্যালকোহল পান না করা দরকার এবং সেইসঙ্গে চিকিৎসা তো বটেই!

নাসিকা গর্জন নিয়ে অনেক হাসিঠাট্টা করে থাকি আমরা৷ কিন্তু, সে যে এমন সমস্যার খনি, তা কে-ই বা জানত? সুতরাং, আর হাসাহাসি নয়, এবার বরং প্রয়োজন এই নাকডাকা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো৷ কেউ নাক ডাকে, এটা স্রেফ মজার বিষয় নয়৷ এর থেকে অনেক রোগেরও সৃষ্টি হতে পারে৷ তাই ভালো করে ঘুমোতে চান, সুস্থ হয়ে বাঁচতে চান, তো নাকডাকা আগে কমান৷ এমন একটা ধুয়ো তুলে দেওয়াটা মনে হয় সবার আগে দরকার৷

আমের কতগুণ !!!

ফলের রাজা আম। টসটসে রসে ভরা এই ফল শুধু নামেই নয়, কাজেও ‘রাজা’; মানবদেহের কোষ ধ্বংস রোধ থেকে শুরু করে হৃদরোগ, অল্প বয়সেই বুড়িয়ে যাওয়া, ক্যানসার প্রভৃতি রোধ করতেও আমের জুড়ি নেই।
—আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ লৌহ। এ কারণে গর্ভবতী নারী ও যারা রক্তাল্পতায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য ফলটি খুবই উপকারী। তবে কত বেশি পরিমাণ খাবেন, তা জানার জন্য চিকিত্‍সকের পরামর্শ নিতে হবে।
—জুতা পরার পর যদি পায়ে সমস্যা হয়, তাহলে ত্বকের ওই অংশে আমের ফালি ১০ মিনিট রাখুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন। উপকার পাবেন।
—হজমের সমস্যায় ভুগলে আমই হতে পারে আপনার সবচেয়ে বড় সহায়ক। আমে রয়েছে হজমের জন্য উপকারী এনজাইম। এটি এসিডিটির পরিমাণও কমাবে।
—আম পটাশিয়াম সমৃদ্ধ। এটি উচ্চ রক্তচাপ হ্রাস করে।
—শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান? তাহলে খাদ্যতালিকায় আম রাখতে ভুলবেন না। কারণ আম খেলে প্রচুর পরিমাণ ক্যালরি যেমন মিলবে, তেমনি পাওয়া যাবে শর্করা।
—কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, কিডনিতে পাথর জমার ঝুঁকি কমায় আম।
—আমে রয়েছে ভিটামিন ‘ই’; এটি যৌনশক্তি বৃদ্ধি করে। শরীর গঠনেও সহায়তা করে আম।
—পরীক্ষা নিয়ে ভয়? আপনার ভরসা হতে পারে আম। এর মধ্যে থাকা গ্লুটামিন এসিড মনোযোগ বাড়াতে ও স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।
—চীনা চিকিত্‍সায় আমকে অনেক রোগ উপশমের দাওয়াই হিসেবে দেখা হয়। বলা হয়ে থাকে, রক্ত-স্বল্পতা, সর্দি, জ্বর, সামুদ্রিক ভ্রমণজনিত অসুস্থতা প্রভৃতি দূর করতে আমের জুড়ি নেই।
—যদি এসব কোনো উপকারকেই আপনি গুরুত্ব না দেন, তবু আম খাবেন। কারণ, এটি বছরের সব সময় পাওয়া যায় না।

সুস্থ্ থাকুন এই গরমেও ।



চৈত্রের শুরু থেকেই রাজধানীসহ সারাদেশে প্রচন্ড গরম পড়ে। এই কাঠফাটা রোদের মাঝেই জীবন ও জীবিকার তাগিদে ছুটে চলতে হয় অবিরাম। এই গরমে সুস্থ থাকতে আমাদের প্রত্যেকেই কিছুটা সচেতন হতে হবে বা সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। গরমে কীভাবে সুস্থ থাকা যায়, তা নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন।

গরমে রোগ ব্যাধি

ষড়ঋতুর এই বাংলাদেশে আমাদের কাছে প্রতিটি ঋতুর আগমনই আমাদের কাছে আনন্দদায়ক। তবে প্রতিটি ঋতুর মত গ্রীষ্মেরও ভাল ও মন্দ দিক রয়েছে। একটু সচেতন থাকলেই এর মন্দ দিক অর্থাৎ রোগ-ব্যাধি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এই গরমে চলতে ফিরতে আমরা কমবেশি সবাই শারীরিক ও মানসিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়ি। সঠিক সময়ে সচেতন না হলে অনেক সময় তা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সাধারণত অতিরিক্ত গরমে যেসব সমস্যা দেখা দিতে পারে, সেগুলোর কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

হিট স্ট্রোক

এই গরমে ঘামের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের প্রচুর পরিমাণ পানি বেরিয়ে যায়। ফলে লবণের ঘাটতি দেখা দেয়, যা শরীরকে করে তোলে অবসন্ন, পরিশ্রান্ত। এতে মাথাঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে পড়তে পারেন অনেকেই। তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা না করলে মৃত্যুও হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

প্রতিকার

এই গরমে যতটুকু সম্ভব রোদে কম সময় অবস্থান করতে হবে। শরীর অবসন্ন হওয়া মাত্রই ছায়াযুক্ত বা শীতল কোন স্থানে রোগীকে নিয়ে যেতে হবে। ঠান্ডা পানি ভেজানো কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিতে হবে। খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে, যাতে শরীরের লবণ ও পানির শূণ্যতা দূর করতে পারে। অজ্ঞান হলে বা মাথা ঘোরালে মাথায় পানি ঢালতে হবে। যদি তাতেও অবস্থার উন্নতি না হয়, তবে দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

পেটের পীড়া

গরমের সময় অত্যধিক তাপমাত্রায় খাদ্য দ্রব্য তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া গরম থেকে স্বস্তি পেতে আমরা চলার পথে অনেক কিছুই খেয়ে থাকি, যেগুলোতে হয়তো রোগজীবাণু থাকতে পারে। অন্যদিকে গরমের সময় আমাদের দেশে চরম পানি সংকট থাকায় বাসায় বা হোটেলে অনেক সময় থালা-বাসন সঠিকভাবে সাবান দিয়ে পরিস্কার করা হয় না। এসব কারণে অনেকেই এ সময় পেটের পীড়ায় ভুগে থাকেন, যাকে আমরা বলি ফুড পয়জনিং। এ থেকে বমি, ডায়রিয়াসহ অনেক রোগেই আমরা আক্রান্ত হতে পারি।

প্রতিকার

পেটের এইসব পীড়া থেকে বাঁচতে হলে আমাদের অবশ্যই বাইরের খোলা খাবার খাওয়া থেকে দূরে থাকতে হবে। আর খেতেই যদি হয় তবে মানসম্পন্ন রেস্টুরেন্টে খাওয়া ভাল। বাসি খাবার খাওয়া যাবে না। খাবার আগে অবশ্যই ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। এছাড়া পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি, শরবত, ফলের রস কিংবা ঠান্ডা পানীয় পান করতে হবে। পাতলা পায়খানা শুরু হলে খাবার স্যালাইন খেতে হবে। অবস্থা বেশি খারাপ হলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।

ত্বকের সমস্যা

গরমের সময় অনেকেরই ত্বকে বিভিন্ন রকম সমস্যা দেখা দেয়। ঘাম থেকে ঘামাচি হওয়া, তারপর সেই ঘামাচি চুলকাতে গিয়ে নখের আঁচড়ে ঘা তৈরি করা সাধারণ সমস্যা। আবার পানি সংকটের কারণে অনেকে গোসলের সময় সাবান কম ব্যবহার করে থাকেন, যার ফলে গোসলের পরও শরীর অপরিচ্ছন্ন থাকে। সেইসাথে রোদে পুড়ে ত্বক কালো হওয়া বা অনেকের ত্বকে ছোপ ছোপ দাগও পড়ে।

প্রতিকার ত্বকের সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে সবসময় চেষ্টা করতে হবে রোদে কম অবস্থানের। বিশেষ করে ভর দুপুরে তো নয়ই। প্রতিদিন বাইরে থেকে এসেই সাবান দিয়ে ভালভাবে গোসল করতে হবে। শরীরকে সবসময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বাইরে বের হলে ছাতা ব্যবহার করতে হবে (কালো বাদ দিয়ে)। ঘামের কাপড় বেশিক্ষণ শরীরে রাখা যাবে না। সবসময় হালকা রঙের কাপড় পরতে হবে। ভাল প্রতিষ্ঠানের সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে। চোখের প্রদাহ জনিত সমস্যা থাকলে সানগ্লাস ব্যবহার করা ভাল। আর ঘামাচি হলে ঘামাচি পাউডার লাগাতে হবে। অনেকেরই এসময় সর্দি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানির সমস্যা দেখা দেয়। সেক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। পরিশেষে বলতে চাই এই গরমে অসুস্থ হয়ে পড়া যেমন স্বাভাবিক, তেমনি একটু সচেতন হয়ে চললেই সুস্থ থাকা সম্ভব। শুধু প্রয়োজন আপনার স্বাস্থ্য সচেতনতা। তাই সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন।

লিচুর পুষ্টিগুণ

খুবই সুস্বাদু ও দৃষ্টিনন্দন ফল হচ্ছে লিচু। বাংলাদেশেই রয়েছে নানা প্রজাতির লিচু। অতি উচ্চমাত্রার ক্যালসিয়ামের বসবাস এই ফলে। ক্যালসিয়াম এমন একটি খাদ্য উপকরণ, যা হাড়, দাঁত, চুল, ত্বক, নখের জন্য ভীষণ জরুরি। বয়স্ক নারী যাঁদের মেনোপোজ হয়ে গেছে, তাঁদের জন্য লিচু যথেষ্ট উপকারী। কারণ এসব নারীদের অতিমাত্রায় ক্যালসিয়ামের অভাব হয়। পরিণতিতে দাঁত, হাড়, চুল, ত্বক, নখ দুর্বল হয়ে যায়। অতি উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘সি’র আশ্রয়স্থল এই ফল। ভিটামিন ‘সি’ মৌসুমি অসুখগুলো থেকে রক্ষা করে, ত্বক, চুলের পুষ্টি জোগায়। প্রচণ্ড ক্ষতিকর আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে শরীরকে রক্ষা করে। এতে রয়েছে নিয়াসিন ও রিবোফ্লাভিন নামক ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্স। ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্স শরীরের জ্বালা পোড়া, দুর্বলতা দূর করে।লিচুর ভিটামিন ‘এ’ রাতকানা কর্ণিয়ার অসুখ, চোখ ওঠা, চোখের কোনা ফুলে লাল হয়ে যাওয়া, জ্বরঠোসা (জ্বরের পরে ঠোটের দুই কোণাতে বা উপরে নিচে ঘা হয়), জিহ্বার ঘা, জিহ্বার চামড়া ছিলে যাওয়া এই রোগগুলো প্রতিরোধ করে।লিচু, তরমুজ, কাঁঠাল—এগুলো গরম ফল। বেশি খেলে পেট গরম হয়ে ডায়রিয়া হয়ে যাবে। তাই নিয়মিত (যত দিন লিচু পাওয়া যায়) ও পরিমিত খাওয়াই শ্রেয়। আর অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য অতিরিক্ত মিষ্টি লিচু পরিহার করাই উত্তম।

কৌতুক-০২৬ চালাকি

স্ত্রীঃ শোনো, তোমার ছেলে এখন অনেক টাকাখরচ করা শিখে গেছে। ওর জ্বালায় কোথাওটাকা লুকিয়ে রাখাও যায় না। যেখানেইরাখি খুঁজে বের করে আর মোবাইলে সারাদিন ঘুটুর ঘটুর। কি করা যায় বলোতো?







স্বামীঃ এক কাজ কর, তুমি টাকাগুলো ওরপড়ার বইয়ের মধ্যে লুকিয়ে রাখো।পরীক্ষার আগ পর্যন্ত নিরাপদ থাকবে,তারপর আবার সরিয়ে রাখলেই হবে "
:P

কৌতুক-০২৫ কি কর ?

এক ব্যক্তি ফোনে তার ডাক্তারের সাথে কথা বলছে।
ব্যক্তিঃডাক্তারসাহেব, খুব ঝামেলায় পড়েছি।
ডাক্তারঃকি সমস্যা?
ব্যক্তিঃআমার বউয়ের কানে সমস্যা হয়েছে।কথা শুনতে পাচ্ছেনা !
ডাক্তারঃআরে এটা কোনো সমস্যা না। ওষুধের নাম বলে দিচ্ছি। এটা খেলে ঠিক হয়ে যাবে। তবে আগে বুঝতে হবে কতটুকু সমস্যা হয়েছে।আচ্ছা পরীক্ষা করা যাক।
ব্যক্তিঃকিভাবে?
ডাক্তারঃএক কাজ করুন।১০মিটার দূর থেকে তাকে জিজ্ঞেস করুন সে কি করে।যদি উত্তর না পান তবে ৮ মিটার দূর থেকে তাকে জিজ্ঞেস করুন সে কি করে।এভাবে উত্তর না পেলে যথাক্রমে ৬, ৪ ও ২ মিটার দূর থেকে তাকে জিজ্ঞেস করুন সে কি করে।এবারও না পেলে একেবারে কানের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন এবং কখন উত্তর পান তা আমাকে জানান।এরপর


















ঐ ব্যক্তি তার বউয়ের ১০ মিটার দূরে থেকে জিজ্ঞেস করল,"কি কর?"- কোনো উত্তর নাই।৮ মিটার দূরে থেকে জিজ্ঞেস করল,"কি কর?"- কোনো উত্তর নাই।৬ মিটার দূরে থেকে জিজ্ঞেস করল,"কি কর?"- কোনো উত্তর নাই।৪ মিটার দূরে থেকে জিজ্ঞেস করল,"কি কর?"- কোনো উত্তর নাই।২ মিটার দূরে থেকে জিজ্ঞেস করল,"কি কর?"- কোনো উত্তর নাই।এইবার একেবারে কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল,"কি কর?"এইবার বউয়ের রাগান্বিত গলা শুনতে পেল,"এই নিয়ে ৬বার বললাম আলু আর পটল রান্না করি।

ওজন কমাবে বাদাম ।

যারা বাড়তি ওজন নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত তাদের জন্য বাদাম খুবই কার্যকর হতে পারে। বাদাম খেলে পেট ভরা ভরা লাগে, তাই কম ক্যালরি খেয়েই ক্ষুধা দূর করা সম্ভব হয়। ওজন কমাতে অবশ্যই ক্যালরি কম খেতে হবে, কিন্তু তা করতে গেলে ক্ষুধা মেটানো সম্ভব হয় না। বাদামে আছে পর্যাপ্ত চর্বি ও প্রোটিন এবং এর চর্বির প্রায় পুরোটাই অসম্পৃক্ত ধাঁচের অর্থাত্‍ স্বাস্থ্যকর। এতে ভিটামিন বেশি না পাওয়া গেলেও পর্যাপ্ত পরিমাণে পটাশিয়াম পাওয়া যায়। তা ছাড়া ম্যাগনেশিয়াম সহ প্রয়োজনীয় আরো কিছু খনিজ রয়েছে, যারা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করেন, তারা ক্যালরি বেড়ে যাওয়ার ভয়ে বাদামের চর্বি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। বাদামে শর্করা সামান্যই আছে। ফলে বাদাম খেলে ওজন বাড়বে না।

কৌতুক-০২৪ গোলকধাধা

আপনি জানেন কি ?
১/ পৃথিবীর কোনো মানুষইতার জিহ্বা দিয়ে সবগুলো দাত ছুতে পারে না।
২/ আপনি নিশ্চই গাধার মতো ব্যাপারটা পরীক্ষা করে দেখছেন।
৪/ অবশেষে দেখতে পেলেন যে আসলে কথাটা মিথ্যা।
৫/ আপনার মুখে বোধহয় একটা মুচকি হাসি দেখা গেল।
৫/ আমি বাজি ধরে বলতে পারি,আপনি খেয়াল করেন নাই আমি যে নম্বর ৩/ স্কিপ করেছি।
৬/ কি চেক করে দেখলেন যে আসলেই সত্যি, তাইনা?
৭/ কিন্তু আবারো আপনি দেখেননি যে আমি নম্বর ৬/ ও স্কিপ করেছি।
৮/ এবারো বোকা হলেন।আসলে নম্বর ৬/ কিন্তু আছে।
৯/ আমি আবারো বাজি ধরলাম,নম্বর
৫/ যে দুইবার দেওয়া হয়েছে তাও আপনি দেখেননি।
১০/ আশাকরি মুখের হাসিটা আবারো ফিরে আসছে।
১১/ আসলে পুরো ব্যাপারটাই'চিলে কান নিয়ে গেছে' র মতো। যা করতে বললাম,আপনি না বুঝেই তাই তাই করলেন।
:-D :-D :-D

কৌতুক-০২৩ জুলেখা

ট্রেন ডাকাতি হচ্ছে



ডাকাতঃ এই তর নাম কি ?
১ম যাত্রীঃ সুমন ।
ডাকাতঃ যা আছে সব দিয়া দে ।
সুমন সব কিছু দিয়ে দিল ।
ডাকাতঃ এই আপনার নাম কি ?
২য় যাত্রীঃ জুলেখা ।
ডাকাতটি আবেগআপ্লুত হয়ে বললঃ জুলেখা আমার মায়ের নাম ছিল ।
আপনি সসস্মানে মুক্ত ।
ডাকাতঃ এই তর নাম কি ?










৩য় যাত্রীঃ উদয় । লোকে আদর করে জুলেখা বলে ডাকে ।
:-P

কৌতুক-০২২ রম্য সংবাদ

রাত ঠাট্টার সংবাদ পড়তেছে বেলবেলি আফা ।
সারাদেশে একযোগে মুক্তি পেয়েছে Load shedding সিকুয়্যালের দ্বিতীয় ছবি The Load shedding Returns. জানা গেছে ছবিটি দারুণ ভাবে ব্যবসা সফল হয়েছে। দেশের প্রতিটি ঘরে নিয়মিত বিরতিতে ছবিটি প্রচার করা হচ্ছে। এতে করে দারুণ খুশী ছবিটির প্রযোজক ও পরিচালক ময়নার বাপ । তিনি বলেন, ছবিটি সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে,আমরা লোডশেডিং সিকুয়্যালের আরো একটি ছবির কাজ হাতে নিয়েছি, ছবিটির নাম The Dark Knight. ছবিটিতে লোডশেডিং এর কারণে রাতের বেলার অন্ধকারের ভয়াবহতা তো তুলে ধরা হয়েছে সেই সাথে দিনের বেলা ঘরের ভিতরকার অন্ধকারের ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়েছে। The Load shedding Returns ছবিটিতে অভিনয় করেছেন প্রায় ১৬ কোটি অভিনেতা অভিনেত্রী। ছবিটিতে একটি বিশেষ গোষ্ঠী খলের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, গোষ্ঠীটির নাম বাংলাদেশ চিকামারা শিল্পীগোষ্ঠী। আরো জানা গেছে যাদের ঘরে আইপিএস, জেনারেটর আছে তারা ছবিটি দেখা হতে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে করে দারুণ ক্ষেপেছেন ছবিটির সহকারী পরিচালক কচ্ছপ মামা । তিনি আইপিএস, জেনারেটর আবিষ্কারকারীকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আটক করে দ্রুত বিচার দাবী করেন।
খবর - মদন চাচা , নসিমন টিভি।

ফুসফুস রক্ষায় দুই মিনিট দাঁত ব্রাশ!

ফুসফুসকে রোগমুক্ত রাখতে দিনে রাতে দুই মিনিট করে দাঁত ব্রাশ করার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা। শুনতে অবাক লাগলেও সম্প্রতি গবেষকরা দেখেছেন, মুখের জীবাণু ফুসফুসের বিভিন্ন রোগের জন্য দায়ী।এ ছাড়া শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত রোগের ক্ষেত্রে ধূমপানের ফলে ফুসফুসের ক্যান্সার ও ক্রোনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি) হয়। তবে সম্প্রতিক গবেষণা এ ব্যাপারে নিশ্চিত নয় যে মাড়ির জীবাণুর সিওপিডি রোগের জন্য সরাসরি দায়ী কিনা। কিন্তু এ রোগে আক্রান্তদেরসহ অন্যান্য ফুসফুসের রোগীদের ওপর গবেষণা করে দেখা গেছে, মাড়ির জীবাণু ফুসফুসের নানা রোগের জন্য দায়ী। কিন্তু কিভাবে জীবাণুগুলো এ রোগের জন্য দায়ী তা সুস্পষ্টভাবে এখনো জানা না গেলেও তারা একটা ধারণা দিয়েছেন।তাদের মতে, দাঁতের প্লাকে মাড়িতে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া ফুসফুসে প্রবেশ করে শুধু সিওপিডিই নয়, শ্বাস-প্রশ্বাস জনিত নানা রোগের কারণ। তাই উচিত প্রতিদিন দুইবার দুই মিনিট করে ব্রাশ করা। সম্ভব হলে প্রতিবার খাবারের পর দাঁত ব্রাশ করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
সূত্র : ইন্টারনেট।

কৌতুক-০২১ দাওয়াত

দোকানের মালিক ও কর্মচারীর মধ্যে কথা হচ্ছেঃ
মালিকঃ আমাদের দোকানে যে পচা ডিমগুলো ছিলো,সেগুলো কে কিনলো?
কর্মচারীঃ লিয়াকত সাহেব।
মালিকঃ গত বছরের পাঁচ কেজি আটা?
কর্মচারীঃ লিয়াকত সাহেব।
মালিকঃ আর ঐ মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া সেমাইগুলো?
কর্মচারীঃ লিয়াকত সাহেবই সব নিয়ে গেছেন।
এমন সময় মালিকের মুখ কালো হয়ে গেল। কপাল দিয়ে ঘাম ছুটতে লাগলো। কর্মচারী ভয় পেয়ে জিজ্ঞেস করল-হুজুর আপনার কি শরীর খারাপ লাগছে?









মালিকঃ না, লিয়াকত সাহেবের বাসায় আজ আমার সপরিবারে দাওয়াত আছে।
:P

কৌতুক -০২০ ওয়াশিং মেশিন

স্বামীঃ তোমার বাবা বলেছিল বিয়ের সময় ওয়াশিং মেশিন দিবেন,বিয়ের এক বছর পার হয়ে গেল আজ পর্যন্ত পাই নাই।
.
.
.
.
.
.
.
স্ত্রীঃ মিছা কথা কও কেন?
আমাকে দেন নাই? আমি কি তোমার কাপড় ধুয়ে দেই না?
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
স্বামীঃ তাইতো কাপড়ের ময়লা কম আর পকেট বেশি পরিস্কার হয়ে যায়।
:P

কৌতুক-০১৯ শালা এবার নৌকা বানা :-D

এক বাংলাদেশী, এক ভারতীয় আর একজন পাকিস্তানী ঘুরতে বের হয়েছে আমাজানে।এরা ধরা পড়েছে জংলীদের হাতে। জংলীরা তিনজনকে একটা কুঁড়েঘরে আটকিয়ে রেখেছে। খুব চমত্‍কার একটা ফল খেতে দিচ্ছে তাদের।এই ফল খেয়ে তাদের চামড়া খুব মসৃন হয়ে যাচ্ছে। যেন তাদের যৌবণ ফিরে আসছে।এরা তিনজনেই খুশী।
এই সুখ অবশ্য বেশি দিন সইল না। একদিন সকালে জংলী সর্দার এল। এসে প্রথম ধরেছে পাকি-টাকে।তুমি কিভাবে মরতে চাও? পাকিটা বলল তোমারা যে ফলটা খেতে দাও, সেই রকম মিষ্টি কোন ফল নিয়ে আস যেটা বিষাক্ত। ওটা খেয়েই আমি মরব।তার ইচ্ছা অনুযায়ী লাল একটা ফল নিয়ে আসা হল। পাকিটা "পাকিস্তান জিন্দাবাদ" বলে ফলটা খেয়ে ফেলল। তার এসে গেলো গভীর ঘুম যা আর ভাঙ্গে না।বাঙ্গালী আর ভারতীয় দুইজন এরপর দেখল ভয়াবহ ব্যাপারগুলা। জংলীরা পাকিটার মাথা আলাদা করে সেটাকে মমি করে রাখল । বাকি শরীরের চামড়া ছাড়াল। এরপর সেটা দিয়ে বানাল ছোট একটা ক্যানু(canoe=ছোট ডিংগি নৌকা)।এইসব দেখে ভারতীয় আর বাঙ্গালীর অবস্থা খারাপ। পনের দিন পর জংলীসর্দার আবার এল। এইবার ভারতীয়টার পালা।ভারতীয়টাও "জয় হিন্দ" বলে ফল খেয়ে মারা গেল। তার মাথার মমি করা হল, চামড়াটা দিয়ে বানানো হলো ক্যানু।কিছুদিন পরে বাঙ্গালীর পালা। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো কিভাবে মরবে? সে চাইলো একটা কাটা চামচ। এরপর কাটা চামচটা দিয়ে নিজের শরীরের নানা জায়গায় আঘাত করতে করতে বলল, "হারামজাদা! পারলে এইবার নৌকা বানা"

কৌতুক-০১৮ ওবামা ডিম পাড়ে :-D

ক্লাশে শিক্ষক ছাত্রদের কাছ থেকে পড়া জিজ্ঞাসা করছেন।
স্যার : বল্টু বলত,'আমেরিকারপ্রেসিডেন্টের নাম কি' ?
বল্টু : পারি না, স্যার ।
স্যার : তা পারবি কেন ? সারাদিন শুধু ভিডিও গেম নিয়ে পরে থাকিস । ঠিক আছে এই বিষয় নিয়ে একটা প্রশ্নকরি,'তুই যখন গাড়ি রেস দিস তখন তোর গাড়ির স্পিড কত থাকে' ?
বল্টু : মনে নেই ।স্যার : এটাও পারলি না ! সবচেয়ে সোজা একটা প্রশ্নকরি তোকে বলত,'মুরগী কী পারে' ?
বল্টু : জানিনা স্যার ।
স্যার : (রাগান্বিত কন্ঠে) কাল এই তিনটা প্রশ্নের সঠিক জবাব চাই আমি,আর এটাই তোর আজকের বাড়ির কাজ ।
পরের দিন
স্যার : কিরে বল্টু , তোকে যে কাজ দিয়েছিলাম তা হয়েছে ?
বল্টু : জি স্যার ।
স্যার : বল, সবগুলোর উত্তরএকসাথে দিবি ।
↓↓
↓↓
↓↓
↓↓
↓↓
বল্টু : স্যার উত্তরগুলো হচ্ছে,
''বারাক ওবামা ফুল স্পিডে ডিম পারে'' ।
:-D :-D :-D